প্রবাসীরা বিদেশে বসেই দেশের যেকোন ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে।

প্রবাসীদের বিদেশে বসেই বাংলাদেশের যে কোনো ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা এবং তার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এনআরবি কমা’র্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংকের চেয়ারম্যান এসএম পারভেজ তমাল। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এনআরবি কমা’র্শিয়াল ব্যাংক চালুর উদ্দেশ্য ছিল প্রবাসীদের অর্থ দেশের বিনিয়োগে নিয়ে আসা এবং রেমিটেন্স বাড়ানো।

“কিন্তু আইনের কারণে আমর’া সেটা পারছি না। প্রবাসীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমর’া বাধার মুখে পড়ছি। এ বি’ষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের স’ঙ্গে আলোচনা চলছে।” প্রবাসীদের ব্যাংকিং সহজ করার দাবি জানিয়ে এনআরবিসির চেয়ারম্যান বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি মানুষ দেশের বাইরে থাকেন।

এই ১ কোটির সাথে তাদের পরিবার হিসাব করলে মোট ৫ কোটি লোক আছে। কিন্তু এই ১ কোটি প্রবাসী ঠিকভাবে বাংলাদেশে ব্যাংকিং করতে পারেন না। এর ফলে তারা হুন্ডি করতে উৎসাহিত হন। তাদের ব্যাংকিং সহজ করলে বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বেড়ে যাব’ে। “বাংলাদেশের বিভিন্ন আইন কানুনের জন্য প্রবাসীরা বিদেশে বসে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন না।

একটা অ্যাকাউন্ট খুলতে তাদের দেশে আসতে হয়। এটা বর্তমান যুগে ব্যাংকিং প্রসারে অনেক বড় বাধা। আমা’দের এমন ব্যবস্থা করতে হবে যেন প্রবাসীরা বিদেশে বসে আমা’দের দেশের ব্যাংকগু’লোতে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে এবং অ্যাকাউন্টের কার্যক্রম চালাতে পারে, এটা তাদের পাসপোর্ট দিয়ে করা যেতে পারে।”

অনুষ্ঠানে ব্যাংকের চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল ছাড়াও পরিচালক ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান এএম সাইদুর রহমান, উদ্যোক্তা মোহা’ম্ম’দ আলী চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুখতার হোসেন, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. তালহা, আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান কবীর আহমেদ ও চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার হারুনুর র’শিদসহ ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিদেশি বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে বৃহস্পতিবার এনআরবিসির অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট উ’দ্ধোধন করা হয়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল বলেন, “প্রবাসীদের স্বপ্নের ব্যাংক এনআরবিসি। ব্যাংকটির মূল লক্ষ্য মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেবা প্রদান করা। ইতোমধ্যে সারা দেশে ৩৬৭টি উপশাখা চালু করা হয়েছে, যার ৯০ শতাংশ গ্রামে অবস্থিত।”

তিনি বলেন, “দীর্ঘ এক যুগ পর প্রথম কোনো ব্যাংক পুজিঁবাজারে আসতে যাচ্ছি। আমর’া বিনিয়োগকারীদের ১০ টাকা মূল্যমানে শেয়ার দিচ্ছি। কিন্তু বাস্তবে প্রতিটি শেয়ারের বাজার মূল্য হবে প্রায় ১৫-১৬ টাকা।” গত ১৮ নভেম্বর এনআরবি কমা’র্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংককে পুঁজিবাজার থেকে টাকা তোলার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩১তম ব্যাংক হবে এনআরবি কমা’র্শিয়াল। ১০ টাকা অ’ভিহিত মূল্যের ১২ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে মোট ১২০ কোটি টাকা তুলবে তারা। আইপিওর মাধ্যমে তোলা অর্থ সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয়, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও আইপিও খাতে ব্যয় করবে ব্যাংকটি। ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নিবন্ধন পাওয়ার পর ওই বছর ২ এপ্রিল কাজ শুরু করে এনআরবি কমা’র্শিয়াল ব্যাংক।

এরপর ব্যাংকটি ২০১৫ সালে ৫৬ কোটি টাকা, ২০১৬ সালে ৮৭ কোটি টাকা, ২০১৭ সালে ৯৩ কোটি টাকা, ২০১৮ সালে ৯৩ কোটি টাকা এবং ২০১৯ সালে ১১৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।